দিল্লি পুলিশের স্পেশাল ওয়েপনস অ্যান্ড ট্যাকটিকস (SWAT) ইউনিটের ২৭ বছর বয়সী কমান্ডো কাজল চৌধুরী স্বামীর মারধরে গুরুতর জখম হয়ে শেষ পর্যন্ত প্রাণ হারান। অভিযোগ, তাঁর স্বামী ডাম্বেল দিয়ে মাথায় আঘাত করেছিলেন। ঘটনাটি রাজধানীর পুলিশ মহলে গভীর শোক ও ক্ষোভের সৃষ্টি করেছে।
২২ জানুয়ারি রাতে পশ্চিম দিল্লির তাঁদের বাড়িতে এই হামলার ঘটনা ঘটে। অভিযোগ অনুযায়ী, হামলার মাঝেই অভিযুক্ত স্বামী অঙ্কুর কাজলের ভাইকে ফোন করে জানায় যে সে তাকে মেরে ফেলছে।
অঙ্কুর দিল্লি ক্যান্টনমেন্টে কর্মরত প্রতিরক্ষা মন্ত্রকের একজন কেরানি। কাজলের মৃত্যুর পর তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং খুনের মামলা দায়ের হয়েছে। কাজল চার মাসের অন্তঃসত্ত্বা ছিলেন। তাঁর দেড় বছরের একটি ছেলে সন্তান রয়েছে।
“তোমার বোনকে মেরে ফেলছি”—ভাইকে ফোনে হুমকি
কাজলের ভাই নিখিল, যিনি পার্লামেন্ট স্ট্রিট থানায় কনস্টেবল হিসেবে কর্মরত, জানান যে ২২ জানুয়ারি রাতে অঙ্কুর প্রথমে তাকে ফোন করে বোনকে বোঝাতে বলে।
উদ্বিগ্ন হয়ে নিখিল কাজলকে ফোন করেন। তাঁর কথায়, সাধারণত কাজল খুব বেশি কিছু শেয়ার করতেন না, কিন্তু সেদিন তিনি কিছু বিষয় খুলে বলছিলেন। ঠিক সেই সময় অঙ্কুর নাকি ফোন কেড়ে নিয়ে সরাসরি হুমকি দেয়। নিখিলের দাবি, অঙ্কুর তাকে বলে ফোনটি রেকর্ড করতে, কারণ সেটি নাকি পুলিশের প্রমাণ হিসেবে কাজে লাগবে, এবং সে কাজলকে মেরে ফেলছে। এরপর ফোনে চিৎকারের শব্দ শোনা যায়, তারপরই লাইন কেটে যায়।
“সে মারা গেছে, হাসপাতালে চলে আসো”
নিখিল জানান, প্রায় পাঁচ মিনিট পর আবার অঙ্কুরের ফোন আসে। সে জানায় কাজল মারা গেছে এবং হাসপাতালে যেতে বলে। নিখিল সঙ্গে সঙ্গে পুলিশকর্মীদের নিয়ে হাসপাতালে ছুটে যান। সেখানে পৌঁছে তিনি দেখেন অঙ্কুর ও তার পরিবারের সদস্যরা উপস্থিত।
বোনের অবস্থার বর্ণনা দিতে গিয়ে নিখিল ভেঙে পড়েন। তাঁর কথায়, শত্রুকেও এমনভাবে কেউ মারে না।
আঘাত, হাসপাতালে ভর্তি, তারপর মৃত্যু
এফআইআর অনুযায়ী, রাত প্রায় ১০টা থেকে সাড়ে ১০টার মধ্যে পশ্চিম দিল্লির মোহন গার্ডেন এক্সটেনশনে দম্পতির বাসায় হামলার ঘটনা ঘটে। অভিযোগ, কাজলের মাথায় পিছন দিক থেকে ভারী ডাম্বেল দিয়ে আঘাত করা হয় এবং শরীরের বিভিন্ন জায়গায় গুরুতর চোট লাগে।
তাকে গাজিয়াবাদের একটি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানেই ২৭ জানুয়ারি সকালে তিনি মারা যান। এর কিছুক্ষণ পরই অঙ্কুরকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।
দীর্ঘদিনের পণ-সংক্রান্ত নির্যাতনের অভিযোগ
কাজলের পরিবার আরও অভিযোগ করেছে যে বিয়ের পর থেকেই পণ নিয়ে মানসিক ও আর্থিক চাপ চলছিল। কাজলের মা জানিয়েছেন, মেয়েকে শ্বশুরবাড়ির জন্য ঋণ পর্যন্ত নিতে হয়েছিল। অন্যদিকে, অঙ্কুরও নাকি কাজলের বাবা-মায়ের কাছ থেকে টাকা ধার নিয়েছিল।
কাজলের বাবা রাকেশ বলেন, বিয়েতে মোটরবাইক, সোনা ও নগদ অর্থ দেওয়ার পরও শ্বশুরবাড়ির অসন্তোষ থামেনি। তাঁদের দাবি ছিল, অন্য কোথাও বিয়ে হলে নাকি গাড়ি পেত তাদের ছেলে। পরে কাজল নিজেই একটি গাড়ির ব্যবস্থা করলেও হয়রানি বন্ধ হয়নি। এমনকি পরিবারের লোকজনের সঙ্গে ঠিকমতো কথা বলার সুযোগও নাকি তাকে দেওয়া হতো না।
২০২৩ সালে কাজল ও অঙ্কুরের বিয়ে হয়। অর্থনৈতিক বিষয় ও সংসারের নানা বিষয় নিয়ে তাঁদের মধ্যে প্রায়ই ঝগড়া হতো বলে জানা গেছে। শাশুড়ি ও দুই ননদের বিরুদ্ধেও পণ-সংক্রান্ত হয়রানির অভিযোগ উঠেছে।
নানার বাড়িতে ছোট ছেলে
কাজলের ছোট ছেলে এখন তার মামাবাড়িতে রয়েছে। নিখিল জানিয়েছেন, শিশুটি এখনও কিছুই বোঝে না। পরিবার ঠিক করেছে, বড় না হওয়া পর্যন্ত তাকে পুরো ঘটনা জানানো হবে না।